বাংলাদেশে বর্তমানে হিন্দুবিরোধী কোনো সহিংসতা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ভারত থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাংবাদিক মেহেদি হাসানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। মেহেদির সংবাদমাধ্যম জেটিওতে সোমবার রাতে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেছেন তার দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে, বলেছেন গত এক বছরের অভিজ্ঞতার কথাও।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশে হিন্দুবিরোধী কোনো সহিংসতা নেই। তিনি বলেন, ‘এখন ভারতের একটি বিশেষত্ব হলো ভুয়া খবর’।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে মেহেদি হাসানকে জানান মুহাম্মদ ইউনূস।
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ছাত্রনেতারা যখন মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করল, তখন তিনি অবাক হয়েছিলেন কিনা জানতে চান মেহেদি হাসান। তিনি জানতে চান, একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি, যিনি পেশায় অর্থনীতিবিদন এবং বয়সও ৮০ পেরিয়েছে। কেন ছাত্ররা তাকেই নির্বাচন করল?
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমি তাদের চিনতাম না। তাদের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি। প্রথমে আমার প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের কাছে এই বার্তাটি এসেছিল। সহকর্মীরা বলেন যে, “শিক্ষার্থীরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তারা চায় আপনি দায়িত্ব নেন।” আমি সহকর্মীদের বলি, “এগুলো অগ্রাহ্য করুন। এসব আলোচনায় জড়ানোর কোনো দরকার নেই। তাদেরকে বলুন যে, এটা হতে পারে না”।’
‘পরদিন সকালে ছাত্রনেতারা সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ আমার সহকর্মীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কাজ হচ্ছিল না। তারা আমাকে টেলিফোন করে, পুরো বিষয়টা আমাকে ব্যাখ্যা করে। আমি বলি, “না এটা হতে পারে না। তোমরা অন্য কাউকে খুঁজে নাও।” তিনদিন ধরে চলে এই আলোচনা।’
‘আলোচনাকারীরা আমাকে বলে, “ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে, তারা নানা ধরনের আত্মত্যাগ করেছে। সেখানে শিশুদেরও গুলি করা হচ্ছে। তারা আপনাকে চাইছে”।’
এতসব আলোচনার শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে রাজি হন বলে জানান মুহাম্মদ ইউনূস।
সরকার প্রধান হিসেবে গত এক বছরের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হতাশাও আছে, উত্তেজনাও আছে। এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমার। হতাশ এই কারণে যে মানুষের অনেক অভিযোগ আছে, তাদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তারা সবকিছু এখনই চায়, আগামীকালের জন্যও কেউ অপেক্ষা করতে চায় না। আর তাদের চাওয়া যদি পূরণ না হয় তখন তারা বলে, “তুমি ভালো না”।’
তবে এটাকে নেতিবাচক বলে মনে করেন না প্রধান উপদেষ্টা। তার মতে, এটি সরকারের প্রতি মানুষের উচ্চাশার কারণেই ঘটছে।


