বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন অধ্যাদেশ গেজেট প্রকাশ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন অধ্যাদেশ গেজেট প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার অধ্যাদেশটি প্রকাশিত হয় বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-ও গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

এই দুটি অধ্যাদেশ দেশের বনসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন অধ্যাদেশগুলো কার্যকর হলে পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধ্যাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিক

নতুন বন্যপ্রাণী অধ্যাদেশে মোট নয়টি অধ্যায়ে বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষিত এলাকা ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনা, পারমিট ও লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি, বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন, অপরাধের জরিমানা ও দণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে বন্যপ্রাণীর বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নাম এবং গোত্র পরিচিতি সংবলিত তফসিলও যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বন্যপ্রাণী উইং ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন অধিদপ্তরের অধীন ‘বন্যপ্রাণী উইং’ নামে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি অবস্থান অনুযায়ী মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ও প্রায় বিপদাপন্ন বন্যপ্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস ও তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি হ্রাস, কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত করে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব নিরসন ও জনসচেতনতা

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসন, সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, নিষ্ঠুর আচরণ রোধ এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, উদ্দীপণামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ও আহত বন্যপ্রাণীর শুশ্রূষা ও চিকিৎসার জন্য পৃথক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে।

বোর্ড, কমিটি ও ট্রাস্ট ফান্ড

অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করা হবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করা হবে।

বন্যপ্রাণী কল্যাণ, সংরক্ষণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন, প্রজনন, অপরাধ প্রতিরোধ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির বিধান

অধ্যাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণীর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাট-বাজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ প্রদর্শন বা প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad