অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বন্দর নিয়ে সরকারের জনবিরোধী কোনো এজেন্ডা নেই। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। সেই লাইফলাইনে আমরা কত বেশি স্বচ্ছতা আনতে পারব, এটা একটা পাবলিক পলিসি। সেই পলিসি ধরেই সরকার এগোচ্ছে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি–সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে রিটে রায়ের দিন ধার্য হওয়ার পর মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যারা বলছেন বন্দর গেল, বন্দর দিয়ে দিয়েছে। আমরা আইন দিয়ে দেখিয়েছি বন্দর এবং বন্দর টার্মিনাল আলাদা জিনিস। আইনে ডেফিনেশন দেওয়া আছে। আমরা একটি টার্মিনালের অপারেশন দিতে চাচ্ছি, দিইনি এখনো। আর উনারা বলছেন বন্দর গেল, বন্দর গেল। চিলে কান নিয়ে যাওয়ার মতো রটনা! আমাদের এই মামলার ক্ষেত্রে ‘দ্যাট ইজ ওয়ান অব দ্য বেস্ট এক্সাম্পলস’।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নিউমোরিং কন্টেইনার সার্ভিসটা নিয়ে বিদেশি একটা কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা চলছে। এটা নিয়ে গোটা জাতির সামনে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন করে, একটা মিস ইনফরমেশন, ভ্রান্ত একটি বিভ্রান্তিমূলক একটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সেটা হল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোর্টকে বলেছি, এই রিট কয়েকটা কারণে খারিজ হবে। নম্বর ওয়ান উনারা যেটা বলছেন, ডিইরেক্ট পদ্ধতিতে দিতে পারে না। ইতোপূর্বে এটি অন্য একটা কোম্পানিকে ডিইরেক্ট পদ্ধতিতে দিয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, বলেছি যে রিট তখনই হয় কজ অব অ্যাকশন তখনই তৈরি হয় যদি কজ অব অ্যাকশন তৈরি হওয়ার মতো ফাইনাল কোনো সিদ্ধান্ত থাকে। এই ইস্যুতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, ভেরি প্রাইমারি স্টেজ; এই প্রাইমারি স্টেজে আমাদের এই সুপ্রিম কোর্টের অনেক জাজমেন্ট আছে যে প্রি ম্যাচিওরড স্টেজে কোনো জুডিশিয়াল রিভিউ এন্টারটেইন করার সুযোগ নেই। আমরা সেই মর্মে ডিসিশন দিয়েছি।
তৃতীয়ত, আমরা বলেছি উনাদের একটা প্রশ্ন ছিল যে, বাংলাদেশি কোম্পানিকে না দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে কেন দেওয়া হচ্ছে, জবাবে আমরা বলেছি যে, আইন আমাকে এই অথরিটি দিয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের বিজয়ী শক্তি নির্ধারণ করেছিল আমার সংবিধান কেমন হবে, আমার নেতা কে হবে, আমার দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারের কিছু কার্যকলাপ ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে যায়। যায় বলেই আমার এই কোর্ট কাচারি আছে, আমার প্রশাসন আছে, আমার সমস্ত ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে কোনটা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী, কোনটা স্বার্থের পরিপন্থী না সেটা যাচাই বাছাই করা হবে।


