ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম।
মঙ্গলবার (২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এবং সার্বজনীন (ইউ) সনদপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র স্থানীয়ভাবে সংগঠিত বিরোধিতার মুখে প্রদর্শন করতে না পারা দেশের সাংস্কৃতিক পরিসর, শিল্পচর্চার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী একটি চলচ্চিত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন পাওয়ার পরও যদি স্থানীয় চাপ, হুমকি কিংবা সংগঠিত আপত্তির কারণে তার প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের কার্যকারিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে প্রগতিশীল, মানবিক ও চিন্তাশীল শিল্পকর্মকে অযৌক্তিক আপত্তি, গুজব ও অপপ্রচারের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনো শিল্পকর্মের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সেই শিল্পকর্ম প্রদর্শনের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকা উচিত। মতের বিরোধিতার জবাব সমালোচনা, আলোচনা বা পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে হওয়া উচিত, প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়ে নয়।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম বলেছে, শিল্প-সংস্কৃতি একটি জাতির সৃজনশীল চেতনা, মানবিক বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক মানসিকতার অন্যতম ভিত্তি। এ ভিত্তিকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কেবল শিল্পীসমাজ নয়, সমগ্র সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।
সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সংস্কৃতি বিষয়ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আইনগতভাবে অনুমোদিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে শিল্পী, নির্মাতা, প্রদর্শক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং একটি মুক্ত, বহুত্ববাদী ও সহিষ্ণু সাংস্কৃতিক পরিবেশ রক্ষার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।


