বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সব অপরাধের বিচার দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে যতগুলো অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে, প্রত্যেকটি অপরাধের বিচার করতে হবে। সেই বিচার উসমান হাদি পর্যন্ত আসতে হবে।’
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ দাবি জানান তিনি।
শাফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতিকে আমরা হতাশ করব না। জাতির প্রত্যাশার আলোকে মজলুমের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এমনভাবে বলা হয়, আমরা যেন সংবিধানই মানি না। তো সংবিধান না মানলে এখানে আসলাম কেমন করে? এই দেশে বসবাস করি কেন? যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে, আমরা তার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করব। একজন নাগরিক হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব। আমি আমার দাবি অব্যাহতভাবে জানিয়ে যাব যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দাবি বাস্তবায়ন না হবে। তবে হ্যাঁ আমার দাবিটা যদি যৌক্তিক না হয়, তাহলে এটাকে আমি যেকোনো সময় এবান্ডন ঘোষণা করতে পারি, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।’
শফিকুর রহমার বলেন, ‘দখলবাজি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কতগুলা মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে। আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। তারা তো এদেশেরই সন্তান। এইভাবেই মরতে হবে কেন? হালাল রুজির ৯৯ ভাগ মানুষ রয়েছে। এক পারসেন্ট মানুষের হাতে কেন ৯৯ ভাগ মানুষ জিম্মি হবে। এদের যন্ত্রণা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি-উন্নতি আমি এগুলো বুঝি না। যে সরকার আসে, এসেই বলে যে আগের চাইতে এখন অবস্থা ভালো। বর্তমানে আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব বাংলাদেশের সব জায়গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একই ধরনের। কিন্তু যে জায়গাটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বেশি ভার্নারেবল, সেই জায়গায় যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগেই নজর দেওয়া হয়।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার যেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়। আমরা আর দেখতে চাই না, দায়ের কোপে কিংবা গুলিতে কারও জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমরা দেখতে চাই, শিক্ষার্থীরা শিশু হয়ে ঢুকবে, পরিণত মানুষ হয়ে ওখান থেকে বের হবে। দক্ষ নাগরিক হয়ে বের হবে। নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন নাগরিক হয়ে বের হবে। দেশপ্রেম বুকে নিয়ে বের হবে। দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বের হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশকে যদি এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার প্রাণ হচ্ছে টারশিয়ালি লেভেল, সেখানে গবেষণা হবে। জাতির ভবিষ্যৎ ওখান থেকেই বের হয়ে আসবে। দুঃখের বিষয় গবেষণায় ফকিরের ভিক্ষা দেওয়া হয়।’


