কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কোনো পোস্টে লাইক দিতে পারেন তাহলে তিনি অনলাইনে আয়কর রিটার্নও জমা দিতে পারবেন বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো আব্দুর রহমান খান।
ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া কেমন সহজ সেটা বোঝাতেই মূলত তিনি এই উদাহরণ টেনেছেন।
রোববার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরউ) সংগঠনটির সদস্যদের জন্য ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল সাপোর্টিং বুথের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিচ্ছেন।’
‘ফেসবুকে ঢুকে লাইক দিতে পারলে এই সিস্টেমেও রিটার্ন দেওয়া সম্ভব।’
অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা সহজ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থায় করদাতাকে আয়কর আইনের জটিলতা সম্পর্কে জানতে হবে না। নির্ধারিত তথ্য সঠিকভাবে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেম কর হিসাব করে দেবে। ফলে হিসাবের ভুল নিয়ে কর কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করদাতা যদি সঠিক তথ্য দেন, তাহলে কর হিসাব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করলে দায়ভার করদাতারই থাকবে।’
নতুন ব্যবস্থায় আয়কর রিটার্ন অডিটও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে অডিট নির্বাচন করা হবে। এতে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার ইচ্ছামতো রিটার্ন বাছাইয়ের সুযোগ থাকবে না।’
আয়কর নথি জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হবে
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, এফডিআর ও শেয়ারবাজারের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে যুক্ত হবে। এতে করদাতাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহের ঝামেলা কমবে।
তিনি বলেন, ‘এতে কর কর্মকর্তারা করদাতার ব্যক্তিগত লেনদেন দেখতে পারবেন না। শুধু করদাতাই লগইন করে নিজের তথ্য দেখতে পারবেন।’
ভ্যাট রিটার্নও হবে অনলাইনে
আয়করের পাশাপাশি আগামী বছর থেকে ভ্যাট রিটার্নও বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘কাগজের রিটার্নে জটিলতা ও অনিয়ম বেশি হয়। অনলাইনে রিটার্ন দিলে সময়, খরচ ও জ্বালানি—সবই সাশ্রয় হবে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার। পরিবারের মতো রাষ্ট্রও চলে সবার অবদানে। যাদের আয় বেশি তারা বেশি কর দেবেন, যাদের কম তারা কম দেবেন—কিন্তু সবাইকেই দিতে হবে।’
নিয়মিত কর পরিশোধ করলে এটি কখনো বোঝা মনে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


