জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের নানা প্রভাবশালী সাবেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘মানুষ এখন রাতারাতি অলৌকিক পরিবর্তন আশা করছে, যদিও সম্পদ সীমিত। তবে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিতে হবে।’
আসন্ন ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের পরামর্শ, সহায়তা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য।’
তিনি গত ১৫ বছরের শাসনকে বড় ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এটা ছিল রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প।’
এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন লাতভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভায়রা ভিকে-ফ্রেইবার্গা। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজামী গঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সহসভাপতিও।
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পোহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস টাডিচ, লাতভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনিলিয়েভ ও পেতার স্টোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো ইয়োসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।
এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক প্রেসিডেন্ট, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এনজিআইসি-র সহসভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি।
তারা ইউনূসের দীর্ঘদিনের দারিদ্র্যবিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ভূমিকা প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছি।’
বক্তারা বলেন, গত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পর বাংলাদেশ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। একজন নেতা বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। দিক-নির্দেশনা বা সহায়তা যা প্রয়োজন—আমরা পাশে থাকব।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা কেরি কেনেডি মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভির জানান, প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে।
মুহাম্মদ ইউনূস এই অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একত্র হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানো অবিশ্বাস্য। আমি গভীরভাবে আনন্দিত।’
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।


