ফুটসালেই শেষ নয়, মূল ফুটবলেও ফিরতে চান সাবিনা

ফুটসালেই শেষ নয়, মূল ফুটবলেও ফিরতে চান সাবিনা
নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ছবি: বাফুফে
Advertisement
Advertisement

বাফুফে ভবনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে অনেক দিন পর মাইক্রোফোনের সামনে সাবিনা খাতুন। তবে প্রেক্ষাপট এবার ভিন্ন। যে ‘আর্মব্যান্ড’ বা অধিনায়কত্বের ফিতে হাতে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে সাফের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, সেই মূল জাতীয় দলে আপাতত তিনি অপ্রাসঙ্গিক। কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলে ডাক না পেলেও, সাবিনা ফিরছেন ফুটসাল দিয়ে। ১৩ জানুয়ারি থেকে থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তার কাঁধেই।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠল, তবে কি মূল ধারার ফুটবল থেকে সরে ফুটসালেই থিতু হচ্ছেন দেশের অভিজ্ঞ এই ফুটবলার? উত্তরে সাবিনার কণ্ঠ ছিল আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্ট। জানিয়ে দিলেন, ফুটসাল খেলছেন মানেই ফুটবলকে বিদায় বলা নয়। অবসর বা দলবদল নিয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিজের কাছেই রাখলেন তিনি।

সাবিনা বলেন, ‘কবে ফুটসাল বা ফুটবল ছাড়ব, সেটা আমি ঠিক করব। ফুটসালের প্রতি আমি পুরোপুরি নিবেদিত বা এটাই আমার শেষ গন্তব্য, বিষয়টা এমন নয়। যেহেতু আগে খেলেছি, অভিজ্ঞতা আছে, সেটা দিয়ে যদি বাকি মেয়েদের সহায়তা করতে পারি, তাহলে কেন যাব না? তাই এটা মনে করার কারণ নেই যে সাবিনা আর ফুটবল খেলবে না।’

ফুটসালের প্রতি নিজের দুর্বলতার কথাও অবশ্য অকপটে স্বীকার করলেন সাবিনা। স্মৃতির পাতা উল্টে বললেন, ‘ফুটসালের প্রতি আমার আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। আপনারা জানেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে আমি যখন বিদেশের মাটিতে খেলি, সেটা ছিল মালদ্বীপের ফুটসাল টুর্নামেন্ট। তাই এই খেলাটা আমার জন্য অনেক স্মৃতিময়।’

আরও পড়ুন

মূল ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব পেলেও ফুটসালে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে বেশ বাস্তববাদী অধিনায়ক। মাত্র এক-দেড় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে এখনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না তিনি। বরং প্রতিপক্ষ ভারত ও মালদ্বীপকে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রাখলেন।

সাবিনার ভাষ্য, ‘রেজাল্ট কী হবে এখনই বলা কঠিন। কারণ অন্য দলগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। তবে মালদ্বীপের মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে, তাই অভিজ্ঞতায় ওরা এগিয়ে থাকবে। ভারতও বাছাইপর্ব খেলে আসছে, ওরা সব সময়ই শক্তিশালী। তবে দেড় মাসের অনুশীলনে আমরাও চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।’

এদিকে ফুটবলারদের দিয়ে ফুটসাল দল সাজাতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাতেমিকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও জানালেন সেই চ্যালেঞ্জের কথা। সাঈদ বলেন, ‘আমাদের কোনো বিশেষ নারী ফুটসাল খেলোয়াড় নেই, সবাই মূলত ফুটবলার। ফুটসালের নিয়মকানুন ওদের শেখানো আমার ও সহকারী কোচদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমরা এখনো ওদের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ধরাতে কাজ করছি।’

নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের সাফ ফুটসালও অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে। শুক্রবার দুই দল একসঙ্গে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad