ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে একটি ল্যান্ডফিল বা ময়লার ভাগাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ আছেন ২০ জনের বেশি কর্মী।
ল্যান্ডফিল হলো- বর্জ্য (ময়লা-আবর্জনা) ফেলার ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত স্থান। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে সেবু সিটির বিনালিউ ল্যান্ডফিলে এই ধস ঘটে। সেখানে ১০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছিলেন।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক স্থানীয় ফায়ারকর্মী এএফপিকে বলেন, ‘এত টন ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনার নিচে চাপা পড়লে মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।’
বিনালিউ ল্যান্ডফিলের আয়তন প্রায় ১৫ হেক্টর (৩৭ একর)। স্থানীয় মাইনস অ্যান্ড জিওসায়েন্সেস ব্যুরোর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে আবর্জনা ভারী হয়ে যাওয়া এবং কিছু প্রকৌশলগত ত্রুটি এই ধসের পেছনে দায়ী থাকতে পরে।

এদিকে ময়লার ভাগাড় ধসের ঘটনায় দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা পর্যালোচনার দাবি তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। ধসের কারণ তদন্তের আদেশ দিয়ে ভাগাড়টির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট সলিউশন্স ইনকর্পোরেশনকে কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইনের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ।
স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, কোম্পানিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে একটি কমপ্লায়েন্স প্ল্যান (নিরাপত্তাসহ সাইট পরিচালনার পরিকল্পনা) জমা দিতে হবে।
সেইসঙ্গে ধসের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ফিলিপাইনের আইনপ্রণেতারাও দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং বর্জ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিনালিউ ল্যান্ডফিলের কার্যক্রম তদন্তের অনুরোধ জানানো সেনেটর ইমি মার্কোস সোমবার বলেন, ‘এটা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমরা আগেও এমন ট্র্যাজেডি দেখেছি, তবুও একই ঝুঁকি রয়ে গেছে। সেবুতে যে প্রাণহানি হয়েছে, তা সব ধোঁয়াশার স্পষ্ট জবাব। আমাদের বাস্তবিক অর্থেই কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’


