ফিলিং স্টেশনে তেল চাওয়ায় পিটুনি, তরুণের মৃত্যু

ফিলিং স্টেশনে তেল চাওয়ায় পিটুনি, তরুণের মৃত্যু
হাসপাতালে নেওয়ার পর তরুণের মৃত্যু হয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঝিনাইদহে মোটরসাইকেলের তেল কিনতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের পিটুনিতে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নিরব আহমেদ (২২) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জ্বালানি তেল নিয়ে ফিলিং স্টেশন মালিকদের তৈরি ‘কৃত্রিম সংকটের’ মধ্যে ঝিনাইদহ-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে শনিবার রাত পৌনে ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার বারইখালী গ্রামের নাসিম হোসেন, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের রমিজুল ইসলাম ও দক্ষিণ কাষ্টসাগরা গ্রামের মো. দাউদ হোসেন। তারা সবাই তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, নিরব তার দুই বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে তেল নিতে পাম্পে গেলে বিক্রয়কর্মীরা তেল না থাকার কথা জানান। তবে কিছুক্ষণ পরেই তারা বোতলে তেল ভরছিলেন দেখতে পেয়ে আবারও পাম্পে ফিরে যান নিরব। এ সময় বোতলে তেল ভরা ও মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে তার বাগ-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পাম্পের কর্মীরা নিরবকে ঘিরে ধরে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন। নিরব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার বন্ধুরা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন বলেন, ‘মুমূর্ষু অবস্থায় ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার কাঁধের পিছনে ও মাথার পিছনে গুরুতর জখম ছিল। শুরুতে তার হালকা পালস পাওয়া গেলেও হাসপাতালে আনার অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

নিহত নিরবের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনের সময় নিরব প্রথম সারিতে সক্রিয় ছিল। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায়। নিরব ওই এলাকার বাদুড়গাছা গ্রামের আলিমুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে শহরের আদর্শ পাড়ার বকুলতলা এলাকার একটি মেসে থাকত।’

ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘আমি ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শন করেছি। স্টেশনের তিন কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এর আগে, শনিবার দুপুর থেকেই ঝিনাইদহের ৩৩টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে প্রায় ২৮টিতে তেল বিক্রি বন্ধ করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা শহর ঘেঁষা মাত্র দুটি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি চালু ছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad