বাংলাদেশের ক্রিকেটে যৎসামান্য সাফল্য যা এসেছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাত ধরেই। ২০২০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর টানা দুই দফায় জিতেছে এশিয়া কাপের শিরোপা। ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া কাপে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয়বার সাফল্য পেয়েছে ২০২৪ সালে ভারতকে হারিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় টানা তৃতীয় শিরোপায় চোখ রেখে আরো একটি এশিয়া কাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা।
তাদের মধ্যেই একজন, দীর্ঘদেহী ব্যাটিং অলরাউন্ডার রিজান হোসেন, যিনি পেস বোলিংও করেন। এশিয়া কাপের গত আসরেও ছিলেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যাত্রায়। দেশ ছাড়ার আগে টাইমস অফ বাংলাদেশ-কে শুনিয়ে গেলেন আসন্ন টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজের আর দলের স্বপ্নের কথা। পাঠকদের জন্য নিচে রইল চুম্বকাংশ-
এশিয়া কাপ নিয়ে পরিকল্পনা কী? প্রস্তুতি সেরেছেন কীভাবে?
আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। রিসেন্টলি আমরা সিলেটে একটা ক্যাম্প করে কিছুদিন আগে আমরা ঢাকায় এলাম। এখন বাকি সব এক্সিকিউশনের পালা। সামনে এশিয়া কাপ মিশন। আশা করি ভালো একটা রেজাল্ট হবে।
আপনারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশন। চাপ মনে হচ্ছে?
না ওরকম কোনো প্রেশার ফিল করছি না। আমাদের যে কোচিং স্টাফ আছে তাদের পরিকল্পনা করছেন, আমরাও ম্যাচ বাই ম্যাচ যেতে চাচ্ছি। সব মিলিয়ে কোনো আলাদা প্রেশার ফিল করছি না। এভাবে এগিয়ে যেতে পারলে আরো একবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারব ইনশাল্লাহ।
কদিন আগে আফগানিস্তানের সাথে ঘরের মাঠে খেললেন। শ্রীলংকাও বেশ চেনা প্রতিপক্ষ। তারাও আপনাদের শক্তি-দুর্বলতা জানে। এটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে গ্রুপ পর্বের লড়াইতে?
অপোনেন্ট হিসেবে আফগানিস্তান কিন্তু বেশ ভালো। কদিন আগেই আমাদের সাথে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেল, আপনারাও দেখেছেন। শ্রীলংকাও বেশ ভালো। ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করি। তবে অবশ্যই রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে, সেটাই আশা করছি। আমাদের যে দল আছে, সবাই যদি নিজের সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেলতে পারে তাহলে ভালো একটা ফলাফল হবেই।
আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
আমার জন্য দ্বিতীয় এশিয়া কাপ। অনেক বড় একটা ইভেন্ট। আমার যে অলরাউন্ডিং রোল, ব্যাটিং-বোলিং দুটোই; আমি চাইব সবকিছুই ঠিকঠাকমতো করতে। আমি যদি ব্যাটিংটা ভালো করতে পারি, বোলিংটা ভালো করতে পারি, তাহলে আমার নিজের কাছেও ভালো লাগবে, দলেরও একটা হেল্প হবে। আমি আমার তরফ থেকে শতভাগ এফোর্টই দিব। তো দেখা যাক, বাকিটা রেজাল্টে দেখা যাবে।
দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা কোনটা মনে করেন?
ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং আপনি তিন ডিপার্টমেন্টেই বলতে পারেন। আর আমাদের দলের স্পেশালিটি হচ্ছে, আপনি যদি দেখেন অনেক অলরাউন্ডার আছে। ক্যাপ্টেন তামিম, রাতুল, সাথে আমি। জীবন ঢুকেছে এবার। এই অলরাউন্ডাররা আমাদের জন্য অনেক এডভান্টেজ।
এশিয়া কাপে লক্ষ্য নিশ্চয়ই শিরোপা জেতা?
অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তাভাবনা নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়া এখনো দূরের পথ।সামনে যে ম্যাচগুলো আছে, সেসব ধারাবাহিকভাবেই খেলব। এরপর ফাইনালে উঠতে পারলে বাকিটা দেখা যাবে।


