ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের ১০ কেজি চালের পরিবর্তে সাত থেকে আট কেজি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম খান ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও করেন। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গার বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আকরাম খানের সঙ্গে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লার ভাই চন্দন মোল্লার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর পর উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধও এই সংঘর্ষে যুক্ত হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যার সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবলাতলা এলাকায় আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা বলেন, ‘চাল বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন মেম্বাররা। আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়।’
অন্যদিকে আকরাম খান বলেন, ‘গরিব মানুষের চাল কম দেওয়া হচ্ছিল বলে আমি লাইভ করেছি। আমাকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’
ভাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন মিয়া বলেন, ‘চুমুরদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পক্ষ ও প্রতিপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’


