রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ ও রিটেইনার বা গানম্যান নিয়োগের অনুমতি দিয়ে বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে সরকার।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধভাবে প্রার্থী হিসেবে গৃহীত ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে লাইসেন্স পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে হবে।
একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং প্রচলিত আইনে নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতাও থাকতে হবে।
সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার যে নীতিমালা রয়েছে, তার অধিকাংশ শর্ত এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার বা রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় তা প্রযোজ্য হবে না।
এই লাইসেন্সের অধীনে কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হবে না এবং কোনো ধরনের স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, এই বিশেষ লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর ১৫ দিন পর্যন্ত। মেয়াদ শেষ হলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে।
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা লাইসেন্স বাতিল হওয়া সত্ত্বেও কেউ আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিটেইনার বা গানম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
কোনো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি নিজে অস্ত্র কিনতে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হলে, বৈধ লাইসেন্সধারী ও অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম এমন একজন ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে অবশ্যই লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
রিটেইনার বা গানম্যানকে ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে এবং সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার সনদ থাকতে হবে।
পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক বা বর্তমান সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একজন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন।
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে রিটেইনারের অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।


