বান্দরবানের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা আর নেই। বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার (বাতকস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৬ নভেম্বর। রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের তিনকোনিয়া এলাকায়। তার বাবার নাম সাতকমল তঞ্চঙ্গ্যা ও মাতার নাম ফুলেশ্বরী তঞ্চঙ্গ্যা। কাপ্তাই বাঁধে বসতভিটা, জায়গাজমি হারিয়ে তাদের পরিবার চলে আসে বান্দরবানে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। শান্তিবাহিনী প্রতিষ্ঠার পর তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাধীনতা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীতে যুক্ত হন। বাহিনীতে তার নাম ছিল মেজর দুর্জয়।
কিন্তু প্রতিষ্ঠার পরই বাহিনী দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পরিচালিত হতে থাকে লারমা গ্রুপ আর প্রীতি কুমার চাকমার নেতৃত্বে প্রীতি গ্রুপ। প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা প্রীতি গ্রুপে চলে যান। দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হলে ১০ বছরের মাথায় ১৯৮৫ সালে ২৩৩ জন সদস্য নিয়ে রাঙ্গামাটি স্টেডিয়ামে আত্মসমর্পণ করে প্রীতি গ্রুপ। এর মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয় গ্রুপটি।
এরপর প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে নিজ বাসায় সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে যান তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, শান্তিবাহিনীর সদস্যরাই তাকে হত্যার জন্য ওই পরিকল্পনা করে।
১৯৮৯ সালে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদ) সদস্য নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও স্থানীয়ভাবে মতভিন্নতা তৈরি হলে তিনি জাতীয় সংসদের ৩০০ নং বান্দরবান আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা।
প্রসন্ন কান্তির মরদেহ বৃহস্পতিবার প্রথমে বান্দরবান জেলা শহরের নিউ গুলশান এলাকার নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, এরপর মরদেহ গ্রামের বাড়ি সাতকমলপাড়ায় নেওয়া হবে। শুক্রবার সেখানেই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।


