ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে রূপান্তরিত করা না হলে উচ্চ ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে এগুলো আর টেকসই থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্রঋণই দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ গড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে ৫০ শতাংশ নারীর নিয়োগ এবং ক্রেডিট কার্ড নীতি শিথিল করে ঋণের সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
সোমবার ঢাকায় আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডার ডিসকাশন অন ইন্টারঅপারেবল পেমেন্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআইআই) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনায় ব্যাংক খাতের শীর্ষ নির্বাহী, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, টেলিকম অপারেটর এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
গভর্নর জানান, এর আগে ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট সিস্টেম (এক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেকটিতে সহজে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা) চালুর উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও এবার তা সফলভাবে চালু করা হবে। এর মাধ্যমে একটি গেটওয়ে দিয়ে সবগুলো প্লাটফর্মের ডিজিটাল লেনদেন সম্ভব হবে।
৮০ দশকে কার্যকর ছিল এমন ক্ষুদ্রঋণের প্রচলিত মডেল এখন আর টেকসই নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং প্রশাসনিক খরচ এত বেশি যে দীর্ঘমেয়াদে তা বহন করা সম্ভব নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা গেলে খরচ কমবে, ঋণ বিতরণ সহজ হবে, পাশাপাশি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্রঋণই বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ভবিষ্যতের আর্থিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।’
দেশের উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি হওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে ৫০ শতাংশ নারী নিয়োগ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। এতে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক নারীর কাছে সহজে সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন তিনি।
আলোচনায় ‘ন্যানোলোন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন মাত্র একটি বোতাম চাপলেই আবেদন ছাড়াই তাৎক্ষণিক ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে এর কার্যকারিতা যাচাই করছে, সফল হলে এর সীমা আরও বাড়ানো হবে। তবে এই অগ্রগতির মাঝেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে নগদ অর্থের ক্রমবর্ধমান চাহিদা।’
প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়ছে এবং বিপুল অংকের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চালু করা হচ্ছে কিউআর কোডে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা।
অনুষ্ঠান শেষে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদান পদ্ধতি ‘রাস্ট সিস্টেম’ চালুর অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকায় মোজালুপভিত্তিক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেমের ডেমো দেখানো হয়।


