কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন বাবলু মিয়ার বেতন-ভাতা ৩২ মাস ধরে বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।
রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিনের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাবলু মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবলু মিয়া ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পিয়ন) পদে নিয়োগ পান এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ওই পদেই বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন হাজিরা খাতায় বাবলুর ‘পিয়ন’ পদবি কেটে দিয়ে ‘নিরাপত্তাকর্মী’ লিখে সেখানে সই করতে বলেন। এই পরিবর্তন মেনে না নিয়ে বাবলু আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে বাবলুকে তার পদে বহাল রাখা ও বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রধান শিক্ষক সেই নির্দেশ অমান্য করে গত ১২ এপ্রিল বাবলুর কাছ থেকে ৩০০ টাকা মূল্যের ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাবলু মিয়া জানান, ৩২ মাস বেতন না পাওয়ায় তার পাঁচ সদস্যের পরিবারে চরম অশান্তি নেমে এসেছে। টাকার অভাবে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমনকি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের টিন মেরামত করতে না পেরে বর্তমানে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, বাবলু মামলায় হেরে গেছেন।
মাউশির নির্দেশনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি আইন-কানুন ঠিকমতো জানেন না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বাবলু মিয়া জানান, স্ট্যাম্পটি উদ্ধারের জন্য আবেদন করলেও তিনি এখনো সেটি ফেরত পাননি।


