প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীন ও মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।
শনিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ওপর একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব পেশ করার সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পরে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম সংসদে বলেন, ‘আমি একটা ধন্যবাদ প্রস্তাব আনার জন্য দাঁড়িয়েছি। বিগত কয়েক বছর ফ্যাসিবাদী সরকার ছিল। গত চার মাস জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন এবং মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি অনেকগুলো চুক্তি করেছেন। দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদী নেতৃত্ব দেওয়ার পরে আমাদের নেতা বৈশ্বিকভাবে সমাদৃত হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ সফরে আমাদের নেতা কিছু তুলনামূলক খারাপ দৃষ্টান্ত এড়িয়ে চলেছেন। আপনারা দেখবেন, আগের প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশ সফরের আগে ও পরে বিরাট সংবর্ধনা দেওয়া হতো। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদেশ সফরের আগে ও পরে কোনো ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া যাবে না। আমাদের নিজে ফোন করে নিষেধ করে দিয়েছেন। ওনার বিদেশ সফরে সফলতা কিন্তু বিরাট।’
‘এই সফরের ফলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের অন্যতম প্রধান এবং বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবিত করা, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেখানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে’, যোগ করেন তিনি।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বড় অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে ১৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়। মির্জা ফখরুল জানান, রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা সমস্যা নিরসনে চীন সরকার বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব ভোটে দেওয়ার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংসদের অভিমত।’
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপক্ষে এই সফর অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সফরে আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। বর্তমান সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক সফরের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও এই সফরটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।’
‘দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে এবং সংসদকেই রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে’ বলেও জানান তিনি।


