প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও রাশিয়া-চীন বন্ধুত্ব অটুট আছে বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়া-চীন বন্ধুত্বের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেইজিং সফর করছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বুধবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেন পুতিন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পুতিনকে স্বাগত জানান শি জিনপিং। বৈঠকের আগে দুই নেতা করমর্দন করেন।
রুশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেট হলের বাইরে পুতিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। গ্রেট হলে প্রবেশের আগে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন লাল গালিচা ধরে একসঙ্গে হাঁটেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড চীন ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।
বৈঠকের শুরুতেই রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ‘শক্তিশালী ও ইতিবাচক’ অগ্রগতির প্রশংসা করেন পুতিন। রুশ গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তিনি শি জিনপিংকে বলেন, ‘প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী ও ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বেইজিং থেকে সংবাদদাতা ক্যাটরিনা ইউ জানান, বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফর এবং পুতিনের চলমান সফরের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুতিন এরইমধ্যে বহুবার চীন সফর করেছেন এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নানা সময়ে ৪০টিরও বেশি একান্ত বৈঠক করেছেন।’
তার মতে, রুশ প্রেসিডেন্টের এবারের সফরের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের বিদ্যমান সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও গভীর করা।
ক্যাটরিনা ইউ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়েও শি জিনপিং বন্ধু পুতিনকে জানাতে পারেন।’
পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় প্রতিনিধিদলও এবার বেইজিং সফরে এসেছে। এই পদক্ষেপকেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরে শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী ও টেক জায়ান্টদের আমন্ত্রণ জানানোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতা অর্থনীতি, পর্যটন, শিক্ষা-সহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪০টি চুক্তিতে সই করবেন।
তবে ক্যাটরিনা ইউয়ের মতে, পুতিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেই আয় ঘাটতি পূরণে নতুন বাজার ও রাজস্বের উৎস খুঁজছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়ানোয় রাশিয়ার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’


