আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস পরিশোধ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট দাম ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পাশাপাশি দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে মালিকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমাদের তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে; বাকি দুটি কারখানায় প্রক্রিয়া চলমান। ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে; ৪টি কারখানায় এখনো প্রক্রিয়া চলছে। ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম দিয়েছে।’
এ ছাড়া ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানা ছুটি দিয়েছে এবং বাকি কারখানাগুলো আজ ও আগামীকালের মধ্যে ছুটি দেবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের সহায়তার কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা শিল্পের তারল্য সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’


