পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড শিক্ষকদের ‘কলম বিসর্জন’

পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড শিক্ষকদের ‘কলম বিসর্জন’
কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে শাহবাগ অভিমুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

চাকরিতে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে শাহবাগ অভিমুখে পদযাত্রা করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতৃত্বে শিক্ষকরা ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালনের জন্য শাহবাগের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে বহু শিক্ষক আহত হন এবং কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

লাঠিচার্জ ও জলকামানে আহত শিক্ষকদের অনেকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশের শক্ত প্রতিরোধের মুখে আধাঘণ্টার মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে শিক্ষকরা পুনরায় শহীদ মিনারে ফিরে যান।

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে শাহবাগ অভিমুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পুলিশের লাঠিচার্জে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। কারো পা ভেঙেছে, কারো দুই চোখে আঘাত লেগেছে। অনেকের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক টাইমসকে বলেন, ‘বিকালের পর আহতরা একে একে অন্তত ১১০ জন এসেছেন। আহতদের মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ সদস্য ও রিকশাচালক রয়েছেন। গুরুতর বা সামান্য আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, আহতদের অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তবে বাকি আহতরা এখনো চিকিৎসাধীন।

রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম টাইমসকে বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের বুঝিয়ে শহীদ মিনারে ফেরত পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ একদল ব্যারিকেডের প্রথম স্তর ভেঙে ফেলে। তখন তাদের সরিয়ে দিতে হয়।’

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে শাহবাগ অভিমুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

অন্যদিকে, দুপুরে খুলনার এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আন্দোলনরত শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখন ১০ম গ্রেড দাবি করে যে আন্দোলন হচ্ছে, তার যৌক্তিকতা নেই।’

এদিন সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি। শুক্রবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষকরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলনে যুক্ত চারটি সংগঠন হলো–প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) ও সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।

কলম বিসর্জন কর্মসূচিতে শাহবাগ অভিমুখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো তারা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। এতে জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রধান শিক্ষকদের চাকরি ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পে কমিশনে আলোচনাধীন।

আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকার যেন দ্রুত ১১তম গ্রেডের গেজেট দেয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করতে দশম গ্রেডের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি করলেই শিক্ষকরা খুশি মনে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর