জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘কোনো দলের প্রশাসন হয়ে উঠবেন না, জনগণের প্রশাসন হয়ে উঠুন।’
তিনি পুলিশকে সতর্ক করে বলেন, ‘২৪ পরবর্তী দেশে আরেকটি ঘটনা ঘটলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর হোন। কোনো বিশেষ দলকে সুবিধা দিলে এর দায়ভার পুলিশকেই নিতে হবে।’
সোমবার বিকালে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনের বাইরে দলের সমন্বয় সভা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, সভাস্থলের বাইরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, করতোয়া নদীর দিক থেকে দুটি ককটেল ছোড়া হয়। এর একটি বিস্ফোরিত হয়, অপরটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়, যার দুটি বিস্ফোরিত হয়েছে।

সারজিস আলম বলেন, ‘যারা গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে, সেই ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসরদের আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। ভেতরে সভা চলাকালে বাইরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা দায়িত্বে, তারা যতটা সক্রিয় থাকার কথা, ততটা সক্রিয় নয়। তাদের কাছে এই নিষ্ক্রিয়তা কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুনের ঘটনাকে আমরা কোনো স্বাভাবিক বিষয় মনে করি না। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর নির্দেশনা দিতে হবে। ব্যবস্থা না নিলে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
এনসিপির বগুড়া জেলা সমন্বয় সদস্য শওকত ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সভা ভণ্ডুল করতেই এই ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের দায়ী করছি।’
ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। পরে সারজিস আলমের উপস্থিতিতে সভার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
তার আগে, বেলা ৩টার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এনসিপির অস্থায়ী জেলা কার্যালয় উদ্বোধন করেন সারজিস আলম। উদ্বোধনের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর এনসিপির আস্থা নেই, কারণ তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন কবে, কীভাবে, কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে দেশের মানুষ। যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়, বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব।’
ককটেল হামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির।


