পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে রাশিয়ার তেলে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে রাশিয়ার তেলে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বৃহত্তম দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় বুধবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথ নিয়ে আলোচনা শেষে রসনেফট ও লুকওইল নামক দুই রুশ তেল কোম্পানির ওপর এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘আমি যখনই পুতিনের সঙ্গে কথা বলি, কথাগুলো ভালোই হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ফল হয় না।”

সম্প্রতি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ট্রাম্প-পুতিন মুখোমুখি বৈঠকের কথা থাকলেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে ইতিইবাচক সাড়া না মেলায় তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন ট্রাম্প।

রুশ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘পুতিন যুদ্ধ থামাতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই পদক্ষেপ নেওয়া অতি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রসনেফট ও লুকওইল কোম্পানিগুলো যুদ্ধ চালিয়ে নিতে অর্থের মূল যোগানদাতা। এখন হত্যা-রক্তপাত বন্ধ করার সময়। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি।’

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি

এদিকে ন্যাটো মহাসচিব রুটের পাশে বসে ট্রাম্প জানান, পুতিন শান্তি আলোচনাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কাজেই এই নিষেধাজ্ঞা এই মুহূর্তে বিশেষভাবে প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এখন সময় হয়েছে। আমরা অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করলে দ্রুতই এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া যাবে।’

রুটও এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি ইউরোপে শান্তি ফেরাতে পুতিনের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। আমরা আগেই বলেছিলাম তাকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতে হবে, আর আপনি (ট্রাম্প) তা-ই করেছেন।’

এর আগে যুক্তরাজ্যও রসনেফট ও লুকওইলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস বলেন, ‘বিশ্ববাজারে রুশ তেলের কোনো স্থান নেই। যে তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে যুদ্ধ পরিচালিত হয়, সেই প্রতিষ্ঠানকে কিছুতেই সমর্থন দেওয়া যায় না।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার। সামাজিক মাধ্যমে আলাদা আলাদা পোস্টে তারা জানান, রাশিয়ার তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দৃঢ় ও প্রশংসনীয়।

এদিকে লন্ডনে রুশ দূতাবাস এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব নিষেধাজ্ঞা বিশ্বে কেবল জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাবে, দাম বাড়াবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তায় আঘাত হানবে। তারা বলছে, চলমান যুদ্ধে জড়িত কোনো দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে এবং উত্তেজনা বাড়ায়।

রসনেফট ও লুকওইল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। রসনেফট একাই রাশিয়ার মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক জ্বালানি তেল সরবরাহ করে, যা বিশ্ববাজারের প্রায় ছয় শতাংশ।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গ্যাজপ্রম নেফট এবং সুরগুতনেফতেগাজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad