অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। বৃহস্পতিবার মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা গ্রুপ) প্রকাশ করা প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনও অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে।
জনসংহতি সমিতি অভিযোগ করে জানায়, ২০২৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্তত ২৬৮টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এতে যাতে ৬০৬ জন জুম্ম নাগরিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই সময়ে ১৯৩টি জুম্ম অধ্যুষিত গ্রামে টহল অভিযান চালানো হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার মধ্যে ৮ জনকে বিচার-বহির্ভূত হত্যা, ১১৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৪৩টি বাড়িতে তল্লাশি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে সহিংসতার শিকার হয়েছে ৩২ জন জুম্ম নারী ও শিশু। এছাড়া বহিরাগত বিভিন্ন কোম্পানি ও ভূমিদস্যুরা জুম্মদের প্রায় ৩০০ একর ভূমি দখল করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে জনসংহতি সমিতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যালঘুরা আশা করেছিলেন চলমান বৈষম্য ও নিপীড়ন অবসানে একটি পৃথক ‘সংখ্যালঘু কমিশন’ গঠন করা হবে। কিন্তু সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও সেখানে সংখ্যালঘু বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এমনকি সংবিধান সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকেও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত ‘জুলাই সনদে’ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কিংবা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো বক্তব্য রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিকে বর্তমান সরকারের আমলেও আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি চলমান গভীর বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে জনসংহতি সমিতি। এই বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।


