পাবনার সুজানগরে মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সুজানগর পৌরবাজারের নন্দিতা সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ (৫০), চর সুজানগরের জালাল উদ্দিনের ছেলে সুজন আলী (৩৫), শেখ মনজেদ আলী ( ৩০), চর ভবানীপুরের শুকুর আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী (৫৬), আলহাজ্ব হোসেন (৪০), যুবদল কর্মী মানিক খা( ৩৫), চর ভবানীপুরের রশিদ খার ছেলে সবুজ খা (৩০), চর সুজানগরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), সুজানগর মাষ্টারপাড়ার মোনায়েম খার ছেলে শাকিল খা (২৫), চর সুজানগরের আলতু খানের ছেলে রিয়াজ খান (২৫), টিক্কা খান (৬০), পাবনা সদরের চরতারাপুরের কাচিপাড়ার আজহার আলীর ছেলে তুষার (৪০), আসলাম (৪৫) ও মনজিল (৩০)। অন্যদের পবিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফোনে এক নারীর সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিবর খাঁ-এর অনুসারী আশিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রউফ শেখের ভাতিজা ছাত্রদল নেতা কাউছার ও তার অনুসারীরা এই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ।
এরপর এ ঘটনা ওইদিনই মীমাংসা হলেও বুধবার দুপুরে আশিককে সিনেমা হলের সামনে আবার ডাকেন কাউছার ও তার সহযোগিরা। এ সময় দেখা করতে আশিক তার চাচাতো ভাই ছাত্রদল নেতা সবুজকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে কাউছার ও আশিকের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় সবুজ বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আশিক ও সবুজ তাদের অভিভাবক ও বিএনপি নেতাদের জানান। পরে তারা দলবদ্ধভাবে এসে কাউছার ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালান বলে জানা গেছে।
আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে থামাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে ও মারধর করে আহত করা হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। আহতদের ৭ জন পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ৭ জন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ শেখ ও মজিবর খাঁর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌফিক হাসান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি দলীয় কোনো বিষয় নয়। আঞ্চলিক বা ব্যক্তিগত বিষয়। তবুও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আসলেই নিন্দনীয়। ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


