পাবনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই জামায়াত নেতার নাম রমজান আলী।
শনিবার রাতে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শিবরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত রমজান আলী হেমায়েতপুর ইউনিয়নরের ৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং চর শিবরামপুর ভোট কেন্দ্রের পরিচালক।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রমজান আলীকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। তা উপেক্ষা করেই প্রচার চালাতে থাকেন জামায়াতের ওই নেতা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মী রায়হানের নেতৃত্বে রাতে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে তাকে বের করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে থানার সামনে দিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইন্দিরা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় পাবনা-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে মসজিদ থেকে টেনে-হেচড়ে বের করে এনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বাবুল বিশ্বাস ও রানা বিশ্বাসের হুকুমে সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী রায়হানের নেতৃত্বে এ হামলা করা হয়েছে। যদি দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি৷
তবে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘রায়হান আমাদের বিএনপির কেউ না। কারা কী কারণে করেছে আমাদের জানা নেই। কোনো অনুপ্রবেশকারী হতে পারে। তবে নির্বাচনের আগ মুহুর্তে এসব রটিয়ে তারা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে বলে আমার মনে হয়। আজ সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।’
পাবনা-৫ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার তেমন কিছু করার নেই, আমার এখতিয়ারের বাইরে এটি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে, থানা ব্যবস্থা নেবে। আমি শুধু তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাতে পারি, কমিশন ব্যবস্থা নেবে।’
এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’


