পাট খাত আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয়: পাটমন্ত্রী

পাট খাত আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয়: পাটমন্ত্রী
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সরকারি উদ্যোগে দেশে নতুন করে কোনো পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এর পরিবর্তে নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে পাট খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার বিকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, সোনালী আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্ধ পাটকল চালু এবং নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কি না।

উত্তরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। তবে পাটচাষিদের সহায়তায় পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বন্ধ পাটকলগুলো চালুর বিষয়ে মন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

পরবর্তীতে এর মধ্য থেকে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিল বর্তমানে চালু রয়েছে।

অবশিষ্ট মিলগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বাকি ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, ১টি মিলের বিপরীতে দাখিলকৃত আগ্রহপত্র মূল্যায়ন চলছে, ১টি মিলের জন্য নতুন করে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং অন্য ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে এই মিলগুলো আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইজারা বহির্ভূত বাকি ৫টি মিলের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং আইনি জটিলতা বা মামলাজনিত কারণে ২টি মিলকে লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নতুন করে কোনো সরকারি পাটকল স্থাপন না করে বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই এই শিল্পের গতি ফেরাতে চায় সরকার, যোগ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad