সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আমি প্রথমত বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কত লাখ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া, সহযোগিতা আমার পাশে ছিল। একটা দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এটা বুঝবার সৌভাগ্য আমার হতো না।’
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।
রুমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে আর সব কিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কী পরামর্শ দিলেন সে ব্যাপারেও কোথাও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে যার পরিমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, সেটি ফেরত আনা না গেলে কিংবা ব্যাংক খাতে থাকা ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাফিঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা না গেলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের কোনো পরিবর্তন কাজে আসবে না।’
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত ১০ বছরে ওভার এন্ড আন্ডার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে পাচার হয়েছে ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং এই মিথ্যা ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে টাকা পাচারও বন্ধ সম্ভব নয়।’
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক তদারুকী, উন্নতকরণ, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত, খেলাপি ঋণ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি সরকারের ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি করা উচ্চ ডিগ্রিধারী অভিজ্ঞ লোকজন নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর যিনি নিয়োগ পেয়েছেন, তিনি হলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং একজন সোয়েটার ফ্যাক্টরির এমডি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই ঘটনা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখেছি। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি প্রভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দল করা দূষণীয় কিছু নয়। কিন্তু দল না করলে যদি নিয়োগ না হয় সেটা দুর্ভাগ্যজনক।’


