পাঁচ মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রার্থী নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

পাঁচ মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রার্থী নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

গত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেকর্ড ভেঙে এবার সর্বাধিক সংখ্যক প্রার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ। দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রার্থীসংখ্যা। এর আগে পঞ্চম নির্বাচনে দুই হাজার ৭৮৭ জন, সপ্তমে দুই হাজার ৫৭২ জন এবং দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই হাজার ৫৪৭ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন।

ইসির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দলটি এবার অংশ নিতে পারছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে এই দলগুলো না থাকলেও প্রার্থীর কমতি নেই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ২৯৮টি আসনে এক হাজার ৯৮১ জন চূড়ান্ত লড়াইয়ে আছেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ৭৩২ জন দলীয় এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের প্রার্থীর তথ্য ২৭ জানুয়ারির পর যুক্ত হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। এরপর রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৫৩ জন) এবং জামায়াতে ইসলামী (২২৪ জন)। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ১৯২ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (৬৫ জন), গণঅধিকার পরিষদ (৯০ জন), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ (৪২ জন), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (৩৯ জন), আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি (৩০ জন), খেলাফত মজলিস (২১ জন) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (৩৪ জন)।

এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (১২ জন), জেপি (১০ জন), জাসদ (৬ জন), জেএসডি (২৬ জন), জাকের পার্টি (৭ জন), বিজেপি (৫ জন), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (৮ জন), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (১৩ জন), এনপিপি (২৩ জন), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (৪ জন), গণফোরাম (১৯ জন), গণফ্রন্ট (৫ জন), বাংলাদেশ ন্যাপ (১ জন), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (৩ জন), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (১৯ জন), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (২ জন), ইসলামী ঐক্যজোট (২ জন), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (২৬ জন), জাগপা (১ জন), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (৭ জন), বিএমএল (৬ জন), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (২০ জন), বিএনএফ (৮ জন), এনডিএম (৮ জন), বাংলাদেশ কংগ্রেস (১৮ জন), বাংলাদেশ জাসদ (১১ জন), বিএসপি (১৯ জন), নাগরিক ঐক্য (১১ জন), গণসংহতি আন্দোলন (১৭ জন), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (২ জন), বিএমজেপি (৮ জন), বাংলাদেশ লেবার পার্টি (১৫ জন), বিআরপি (১২ জন), বাসদ-মার্কসবাদী (২৯ জন), জনতার দল (১৬ জন), আমজনতার দল (১৫ জন), বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (১ জন), গণতন্ত্রী পার্টি (১ জন) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩ জন প্রার্থী দিয়েছে।

অতীতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে ২৮টি দলের ১৯৬৯ জন প্রার্থী ছিল। ২০১৮ সালে ৩৯টি দলের ১৮৬১ জন, ২০১৪ সালে ১২টি দলের ৩৯০ জন, ২০০৮ সালে ২৮টি দলের ১৫৬৭ জন এবং ২০০১ সালে ৫৫টি দলের ১৯৩৯ জন প্রার্থী অংশ নেন। এছাড়া সপ্তম নির্বাচনে ৮১টি দল, ষষ্ঠ নির্বাচনে ৪২টি দল, ১৯৯১ সালে ৭৫টি দল, ১৯৮৮ সালে ৮টি দল, ১৯৮৬ সালে ২৮টি দল, ১৯৭৯ সালে ২৯টি দল এবং ১৯৭৩ সালে ১৪টি দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আপিল শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানোয় প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হোক। সবাই যেন অংশ নিতে পারে, সেজন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।” একটি সুন্দর নির্বাচনের জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad