পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এরইমধ্য দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠন করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন দলটি।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, শনিবার ‘সিটি অব জয়’ খ্যাত কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বেলা ১২টার দিকে শপথ পাঠ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বর্ণাঢ্য ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি শুভেন্দু অধিকারীকে দায়িত্ব ও গোপনীয়তার শপথ পড়ান।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নেন নতুন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরাও।
এরইমধ্যে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় পাঁচ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শুভেন্দুর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। এরপর শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।
পশ্চিমবঙ্গের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পায় ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) পায় ৮০টি আসন। এর মাধ্যমে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
এ ছাড়া এনডিএ জোটশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে ওঠেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। বিশাল মঞ্চ, হাজারও মানুষের বসার ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা লোকশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আনুষ্ঠানিক শপথ পাঠের আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন। পুরো অনুষ্ঠানস্থল গেরুয়া পতাকা ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের।


