ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে তখন চলছে স্প্যানিশদের বন্য উল্লাস। ম্যাচের বয়স তখন ৯১ মিনিট, ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্ত। বদলি খেলোয়াড় মিকেল মোরিনোর এক মারণ কামড়ে বল জালে জড়াতেই চূর্ণ হয়ে গেল পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
১-০ ব্যবধানের এই হারে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের, যার মাধ্যমে ফুটবল মহাতারকা সিআরসেভেনের বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারেরও ইতি ঘটল।
আর এই বেদনাবিধুর বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ঘোষণা দিলেন পর্তুগালের ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড রবার্তো মার্টিনেজ। জানিয়ে দিলেন, পর্তুগালের প্রধান কোচের পদে তিনি আর থাকছেন না। তবে এই ছিটকে যাওয়াকে কোনোভাবেই ‘ব্যর্থতা’ বলে মানতে রাজি নন তিনি।
২০২৩ সালে পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া মার্টিনেজের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্তই। তার অধীনে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল পর্তুগিজরা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিদায়ের কথা স্পষ্ট করে মার্টিনেজ বলেন, ‘এই পদে কাজ চালিয়ে যাবার এখন আর কোনো অর্থ নেই। হ্যাঁ, এটাই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। এই দলের সাথে ৪৫টি ম্যাচে আমি ছিলাম। পর্তুগালে আমি অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি, ভালোবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতি আমার সঙ্গে সবসময় থাকবে। বিষয়ট কঠিন, কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেছে। আর এখন আমার চলে যাবার সঠিক সময়।’
পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেলজিয়াম জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলে এভারটন, উইগান ও সোয়ানসি সিটির মতো ক্লাবের ডাগআউট সামলেছেন মার্টিনেজ।
এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান স্কোয়াড ছিল পর্তুগালের। মাঝমাঠে ভিটিনহা, হুয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস আর আক্রমণভাগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে গড়া এই দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। তবে স্পেনের মতো ফেবারিট দলের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও একে ব্যর্থতা বলতে নারাজ মার্টিনেজ।
তিনি বলেন, ‘আমরা মোটে ব্যর্থ নই। ম্যাচে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু এমন একটি দলের বিপক্ষে যারা এবারের আসরের ফেবারিট। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে জয়ের জন্য চেষ্টা না করাটা ব্যর্থতা। কিন্তু আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত সম্ভাব্য সব কিছুই করার চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু বিষয় বিশ্বকাপের ভাগ্য গড়ে দেয়। আমাদের কাল একটি শট পোস্টে লেগেছে, যা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
ম্যাচে যখন পর্তুগাল ধুঁকছিল, তখনও ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার কড়া জবাব দিয়েছেন বিদায়ী কোচ।
মার্টিনেজ বলেন, ‘যখন তোমার গোলের প্রয়োজন হয়, তখন রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে, এখানে সমস্যা কোথায়? তার উপস্থিতি দলে প্রয়োজন, বক্সে সে যেকোনো সময় যা কিছু করে ফেলতে পারে। তাহলে তাকে কেন বেঞ্চে নিয়ে আসব? দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিট না খেলানোর কোনো যুক্তি নেই।’


