পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ আটে স্পেন, মেরিনোর গোলে ভাঙল রোনালদোর স্বপ্ন

পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ আটে স্পেন, মেরিনোর গোলে ভাঙল রোনালদোর স্বপ্ন
ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল স্পেন। ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী স্পেন ও পর্তুগালের রোমাঞ্চকর দ্বৈরথে শেষ পর্যন্ত জয় পেল লা রোহারা। যোগ করা সময়ের গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। আর এই হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের শেষ স্বপ্নও।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের ঐতিহাসিক কটন বোল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় স্পেন ও পর্তুগাল। শুরু থেকে দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বল দখল, গতি ও আক্রমণের ধার–সবকিছুতেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। মাত্র চতুর্থ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল একেবারে ওয়ান-টু-ওয়ান অবস্থায় পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়গো কস্তাকে পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি। তার নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কস্তা। ফলে শুরুতে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় পর্তুগাল। ১৪তম মিনিটে স্পেনের আক্রমণভাগে নজর কাড়েন অ্যালেক্স বায়েনা।

বামপ্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে দ্রুত ওয়ান-টাচ পাস ও নিখুঁত বিল্ডআপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার উপস্থিতিতে স্পেনের আক্রমণে গতি বাড়তে থাকে। ২১তম মিনিটে আবারও বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। পর্তুগালের রক্ষণ ভেদ করে আক্রমণ তৈরি হলেও গোলরক্ষক দিয়গো কস্তার দুর্দান্ত সেভে হতাশ হয় স্পেন। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও পর্তুগালও ধীরে ধীরে আক্রমণে ফিরতে শুরু করে।

৩৮তম মিনিটে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার মতো সুযোগ পায় পর্তুগাল। জোয়াও ফেলিক্সের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে রোনালদোর সামনে চলে আসে। কাছ থেকে হুক শটে গোলের চেষ্টা করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় ঝাপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। এরপর ৪২ মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে চলে যায় পর্তুগাল। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নুনো মেন্ডেসের বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে, উনাই সিমনকে পরাস্ত করলেও ভাগ্য সহায় হয়নি পর্তুগালের, কারণ বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

আরও পড়ুন

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই সতর্কতার সঙ্গে খেললেও গোলের জন্য মরিয়া ছিল। ৭৩তম মিনিটে স্পেনের হয়ে দারুণ সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্তে ফাউল আদায় করে ফ্রি-কিক পান তিনি। বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটটি গোলের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়গো কস্তা দুর্দান্ত সেভে বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।

ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ের পথেই এগুচ্ছে দুই দল। কিন্তু যোগ করা সময়েই আসে ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো অসাধারণ বুদ্ধিমত্তায় পর্তুগালের দুই সেন্টার ব্যাকের মাঝ দিয়ে দৌঁড়ে যান। এরপর নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পেয়েছিলেন বের্নার্দো সিলভা। বিপজ্জনক এক ক্রসে সবার ওপরে উঠে হেড করলেও বলটি স্পেনের জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। অল্পের জন্য সমতায় ফিরতে পারেনি পর্তুগাল।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় স্পেনের জয়। মেরিনোর একমাত্র গোলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পায় তারা। অন্যদিকে, ম্যাচের আগে এটিই নিজের শেষ বিশ্বকাপ বলে জানানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা রোনালদো এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হবে আলোচনার বিষয়। অন্যদিকে স্পেন এগিয়ে গেল শেষ আটের লড়াইয়ে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad