নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ কারার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী কাঠমান্ডু। সোমবার বাণেশ্বর এলাকায় শুরু হওয়া ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ দ্রুতই হিংসাত্মক রূপ নেয়। তাদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে নেপালের পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় একজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৮০ জন। এরপর কাঠমান্ডুর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কার্ফু জারি করা হয়েছে।
নেপাল সরকার জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সরকারের খাতায় নাম নথিভুক্ত করাতে হবে। ৩ আগস্ট সেই সময়সীমা শেষ হয়। অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়াই নেপালের সরকারি নির্দেশ মানেনি। ৪ আগস্ট ফেসবুক, এক্স, হোয়াট্সঅ্যাপসহ ২৬টি সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
দেশের যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই নেপালের নানা অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল সরকার। তবে টিকটক নিয়ে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সেটির মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে তোলেন প্রতিবাদীরা।
মনে করা হচ্ছে, আগে থেকে পুঞ্জীভূত হওয়া ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ রোববার হয়েছে। তবে নেপাল সরকারের দাবি, দেশকে সুরক্ষিত রাখতেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতেই ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে সরকার।
এদিকে উদ্যোক্তারা জানান, যারা পার্লামেন্টের ভেতর ঢুকেছেন তাদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে, মার্চ মাসে নেপালে রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে সেনা মোতায়েন করতে হয়। সেই বিক্ষোভের ছয় মাস কাটতে না কাটতেই ফের অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৮ সালের মে মাসে সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ভেঙে নেপালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ২০১৫ সালে অনুমোদিত হয় নতুন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সংবিধান। গত ১৭ বছরে ‘গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ’ নেপালে ১৩ বার সরকার বদল হয়েছে।


