হঠাৎ প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম।
রোববার সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, আহত হন অন্তত ৩০ জন।
ঝড়ে আলু, কলাসহ অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো।
প্রচণ্ড বাতাসে ঘরচাপা পড়ে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে তাইফুল (৩০), তাসিন (২৫), রয়েল (৩০), ফুলছান (৪০) ও আতিক (২২)–কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ২৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকেই বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছিল। সকাল ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়ের মতো তীব্র ঝড় শুরু হয়। এতে গাড়াগ্রাম, পূর্ব দলিরাম গ্রামের হাজীপাড়া, উত্তরপাড়া, পশ্চিম দলিরাম গ্রামের বানিয়াপাড়া ও পোদ্দারপাড়া, গাড়াগ্রাম গ্রামের কালিথানপাড়া এলাকার অন্তত চার শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গ্রামগুলো।

গাড়াগ্রাম মাঝাপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি দুলু মিয়া বলেন, ‘ঝড়ে আমাদের পুরো এলাকা তছনছ হয়ে গেছে। অনেকের ঘরের টিন উড়ে গেছে, অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে।’
কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা জানিয়েছেন, ঝড়ের পরপরই উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করছেন।
রাস্তার ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তবে স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আহতদের চিকিৎসা ও গবাদিপশুর সেবায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি টিম কাজ করছে।’
গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জোনাব আলী বলেন, ‘নিমিষেই সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল! বিভিন্ন স্থানে ঘড় ও গাছচাপা পড়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া অনেক গবাদী পশুও আহত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’


