আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।’
বুধবার সকালে আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা নিশ্চিত করেন বিজিবির কক্সবাজার রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
তিনি জানান, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে বিজিবি।
একই সঙ্গে বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এ সময় নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধীনস্থ নবনির্মিত ‘সেন্টমার্টিন বিওপি’ ও ‘সি-বিচ বিওপি’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক।
বিজিবি সূত্র জানায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে নবনির্মিত বিওপিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিওপিটি দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, মনোবল সুদৃঢ়করণ এবং সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতিশীলতা ও কার্যকারিতা আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
অপরদিকে টেকনাফ উপজেলার লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত ‘সি-বিচ বিওপি’ আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। সেখানে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। এই বিওপি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা, মনোবল এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান জানান, টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত। পরে দ্বীপটির নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পুনরায় সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। নতুন বিওপি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবির কার্যক্রম এখন পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলো।


