দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পরে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। এর আগে অনেক বছর ধরে তার সমর্থকদের ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ ছিল।
বুধবার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জনগণ আমাদের ভোট দেবে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা ভূমিধস জয় পাব।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে লন্ডনে চলে যান তারেক রহমান। শেখ হাসিনার সরকার তাকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করে। বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন।
তারেক রহমান গতবছরের ২৫ ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন এবং ঢাকা বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে তার পথঘাটে লক্ষাধিক মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। তিনি বিশ্বাস করেন, এই জনতা তার দলকে ভোট দেবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আমরা ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছি। আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করি।’
ষাট বছর বয়সী তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছেলে, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হন। তার হত্যার পর ১৯৮১ সালে তার মা খালেদা জিয়া দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তারেক রহমান মাত্র কয়েক দিন আগে তার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
এই নির্বাচনে বিএনপি আরও ৫০টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অন্যতম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উত্থান করতে পারে। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়েছে।
এই নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস, আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা এবং যুদ্ধাপরাধের তদন্তের কারণে করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই ১৫ থেকে আগস্ট ৫ পর্যন্ত ছাত্রদের আন্দোলন চলাকালে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি নিহত হন, বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর অভিযোগ করেছে।
এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারেক রহমান যদি নির্বাচনে জয়ী হন, তিনি চান তার প্রশাসন সাবেক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধতা অনুসরণ করবে এবং যুব আন্দোলনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আশা পূরণ করবে।
এ সময় বিএনপি প্রধান বলেন, ‘আমাদের ১৮০ দিনের কর্মসূচি গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে এক কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি, আইসিটি সেক্টরে উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ অন্যতম পরিকল্পনা।’
এ ছাড়া, তার সরকার সৌদি আরবসহ গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে, যেখানে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সৌদি ভিশন ২০৩০ শ্রদ্ধা করি এবং তাদের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপারে, তার সরকার ‘জাতীয় স্বার্থের’ ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, যা ‘বিশেষ কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়,’ বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের জনগণের জন্য তার প্রতিশ্রুতি হলো, ‘যেকোনো অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, এতে কোনো রাজনৈতিক দল বিশেষ নয়।’


