ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে ভোট চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে যে, নিজের ঈমান রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে হবে। জান-মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়ী করানো ঈমানি দায়িত্ব।
মাহদী আমিন বলেন, ধর্মের এমন অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। এটি নির্বাচনী আইনের (আরপিও) ৭৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে ভুয়া ভোট দেওয়া বা মৃত ব্যক্তির নামে ভোট দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার বন্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভোটকেন্দ্রে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগের কথা রয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, এই সদস্যদের বড় অংশ সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে নিজ থানার বাইরে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানান তিনি।
নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি জানান, এবার ২৮৭টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন সাবেক সংসদ সদস্য এবং ১৯ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। প্রার্থীদের মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক পাস। নারী ক্ষমতায়নে বিএনপি ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
মাহদী আমিন আক্ষেপ করে বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও কিছু রাজনৈতিক দল একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিগত সরকারের দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে গুমের শিকার হওয়া তিনজন ব্যক্তি—সালাহউদ্দিন আহমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। এ ছাড়া গুম হওয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে আরও দুইজন প্রার্থী রয়েছেন বলেও জানানো হয়।


