বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনি শিগগিরই চলে আসবেন।’ তবে নির্দিষ্ট দিন–তারিখ উল্লেখ করেননি তিনি।
রাত ৯টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভিডিও কলে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকের পর সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি দলের নিয়মিত বৈঠক। নির্বাচন–কেন্দ্রিক নানা বিষয়, সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও প্রচারের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ–সংক্রান্ত তথ্য সাংবাদিকদের চিকিৎসক জাহিদ হোসেনই জানাবেন।
এর মধ্যে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে তাঁর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা (এসএসএফ) নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে এই উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়।
দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তিনি দেশে ফিরলে কঠোর নিরাপত্তা দেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এতে তাঁর দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে বলে দলের নীতিনির্ধারকদের ধারণা। স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি ওঠে আসে।
বিএনপির একটি সূত্র দাবি করেছে, তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারেন। কারও মতে, ২–৩ দিনের মধ্যেই তিনি রওনা দিতে পারেন। অন্য একটি সূত্র বলছে, তিনি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দেশে ফিরবেন।
দলের এক নেতার ভাষ্য, খালেদা জিয়াকে যেহেতু এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানও একই ধরনের নিরাপত্তা পাবেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশি–বিদেশি একদল বিশেষজ্ঞ তাঁর চিকিৎসা করছেন। মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলেও নিরাপত্তা–ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণার পর তাঁর দেশে ফেরার পথে আর বাধা নেই বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।
এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চিকিৎসা–সংক্রান্ত বিষয়ে শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যই গণমাধ্যমে ব্যবহার করার জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে।


