এবারের বাজেটে নতুন তামাকজাত পণ্য নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর দাম ও কর নির্ধারণ করে বাজার তৈরির সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উবিনীগ’ এবং ‘তাবিনাজ’ (তামাক বিরোধী নারী জোট)। তরুণ সমাজের জন্য ক্ষতিকর এই পণ্য দুটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
একই সঙ্গে বাজেটে সিগারেটের নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অপর্যাপ্ত এবং বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত রাখা নারী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে উপেক্ষা করার শামিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের দাম ৫০০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশ এবং প্রতি ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর দাম ২১০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন এই তামাকপণ্যের বাজার তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি সিগারেটের যে মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে তা খুবই কম। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম নিম্নস্তরে ৬০ থেকে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ থেকে ৯২, উচ্চস্তরে ১৪০ থেকে ১৬০ এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দাম বাড়ে যথাক্রমে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ১৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত মে মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই মূল্যস্ফীতি হিসাব করলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম উল্টো ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যাবে। আর অন্য তিন স্তরেও প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি হবে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ, ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে এই দাম বৃদ্ধিতে সিগারেটের সহজলভ্যতা কমবে না।
উদ্বেগের বিষয় হলো, চার স্তরের জটিল মূল্য কাঠামো এবারও রেখে দেওয়া হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের দামের ব্যবধান বর্তমানে ২০ টাকা, যা বাজেট প্রস্তাব পাস হলে বেড়ে ৩০ টাকা হবে। অর্থাৎ ব্যবধান বাড়বে ৫০ শতাংশ। এর ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার বদলে আরও সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেট বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, জর্দা ও গুলের দাম বদলানোর কোনো প্রস্তাব করা হয়নি। ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে এই পণ্যগুলোর প্রকৃত দাম আরও কমে যাবে। অথচ ২০১৭ সালের গ্যাটস জরিপ অনুযায়ী, দেশের ২০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। নারীদের মধ্যে এই হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা পুরুষদের ১৬ দশমিক ২ শতাংশ হারের চেয়ে অনেক বেশি। নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
এই পরিস্থিতিতে উবিনীগ ও তাবিনাজ সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর এক করে সব স্তরে দাম অনেক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে কার্যকর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ, জর্দা ও গুলের দাম কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ানো এবং নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা।


