ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত ব্যক্তি তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে গুলিতে তিনি নিহত হন। শুরুতে তার পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে তার আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ৫২ বছর বয়সী টিটন দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে।
টিটন আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন টিটনের ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেন বলে আলোচনা আছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন পান টিটন। কিন্তু আইনি জটিলতায় কারামুক্তি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগারে আটক অনেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো তিনিও কারামুক্ত হন।
পুলিশ বলছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি। তার অনুপস্থিতির কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, টিটন তাদের মধ্যে অন্যতম।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহীদ শাহ নেওয়াজ হলসংলগ্ন রাস্তায় টিটনকে গুলি করা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ জানান, দুজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ওই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান।
একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন মিলে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


