যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন কমিউনিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে হারিয়ে নির্বাচিত হলেন ৩৪ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় তরুণ নেতা।
এর মধ্য দিয়েই নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং শহরের ১১১তম মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনপন্থী ও ট্রাম্পবিরোধী আলোচিত এই কমিউনিস্ট (সমাজতন্ত্রী) রাজনীতিক।
বার্তা সংস্থার এপি’র খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনায় ১০ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৯ ভোট পেয়েছেন মামদানি। কুয়োমো পেয়েছেন ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৬ ভোট। আর স্লিওয়া জিতেছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৩ ভোট।
৫০ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন মামদানি, ৪১ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে কুয়োমো এবং ৭ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন স্লিওয়া।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মেয়র নির্বাচনের ভোট আয়োজন করে অঙ্গরাজ্যটি। মামদানি, কুয়োমো ও স্লিওয়ার পাশাপাশি এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও। তবে গত সেপ্টেম্বরে অ্যাডামস নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে জনপ্রিয়তায় অনেকটা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থেকে এগিয়ে ছিলেন মামদানি।
শহরটির ইলেকশন বোর্ডের (নির্বাচনি সভা) তথ্যমতে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ৯টায়। এর পরই শুরু হয় ভোট গণনা। সংস্থাটি জানায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৭ লাখ যা নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
এবারের নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে এত সংখ্যক আগাম ভোট দেখা যায়নি।
নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়ার একটি ভোট কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়েছেন জোহরান মামদানি। তার ফিলিস্তিনপন্থী বিশ্বাস এবং শহরের বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

মামদানি নিজেকে ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও বিভিন্ন সময় ডেমোক্র্যাট শিবিরের অনেক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ও ইসরায়েলপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে নিউইয়র্কবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তার নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে ছিল, শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, আগামী ১০ বছরে দুই লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ইউনিট নির্মাণ, বাস ভাড়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মুদি দোকান স্থাপন করে খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করা, বড় প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর বাড়তি কর আরোপের মাধ্যমে শিক্ষা, শিশুর যত্ন ও সামাজিক সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, পুলিশ-নির্ভরতা কমিয়ে সামাজিক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক নিরাপত্তা উদ্যোগ জোরদার করার মতো বিষয়।
তার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গিয়েছে এবারের ভোটকেন্দ্রগুলোতে। মামদানির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ এবার প্রচার চালিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন ভোটকেন্দ্রেও।
অন্যদিকে ভার্জিনিয়া ও নিউজার্সি শহরের গভর্নর নির্বাচনেও বেসরকারি ফলাফলে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এতে শহরে শহরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ট্রাম্প বিরোধিতা এবং ডেমোক্র্যাটদের দৌরাত্ম্য।


