ইরানে স্থল অভিযান চালাতে কুর্দিদের উসকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানে স্থল অভিযান চালাতে কুর্দিদের উসকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
ইরানের বিদ্রোহী কুর্দি যোদ্ধারা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইরানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দি যোদ্ধাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে বিদ্রোহ শুরুর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা আইটিভি।

তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ১২ দিন ব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে সশস্ত্র ওই কুর্দিশ বাহিনীকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আইটিভি জানায়, গত বছর যুদ্ধের পর পশ্চিম ইরানে হাজার হাজার কুর্দিশ স্বেচ্ছাসেবীকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের ভেতর স্থল অভিযান শুরু করতে পারে।

সে লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম ইরানের নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালাচ্ছে যেন ইরানের সামরিক বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করা যায় এবং স্থল অভিযানের সক্ষমতা বাড়ানো যায়।

কুর্দিশ সূত্র জানিয়েছে, যখন স্থল অভিযান শুরু হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে  বিমান সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে কি না- তা জানা যায়নি।

গত কয়েকদিনে ইরানও কুর্দিশ বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বোমা হামলা বৃদ্ধি করেছে।

আরও পড়ুন

গত সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর ইরাকের ইরানি ও ইরাকি কুর্দিশ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সেই আলোচনায় ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান ও সশস্ত্র বিদ্রোহের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল। অবশ্য আলোচনায় উপস্থিত থাকা কেউ প্রকাশ্যে তা নিশ্চিত করেননি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে এবং ইরানি প্রভাব দমন করতে বহু আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করছেন।

তিনি নিজেও এ সম্পর্কিত ওয়াশিংটন পোস্টের একটি মতামত নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেছেন। বিশ্লেষণধর্মী ওই লেখায় বলা হয়েছে- মার্কিন সেনাদের স্থল অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই, কারণ ইরানিরা নিজেরাই ‘পায়ের ভূমিকায় থাকবে’ অর্থাৎ স্থল অভিযান পরিচালনা করবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ইরানে একটি সফল বিদ্রোহ সম্ভবত কল্পনার বিষয়, কারণ ইরান কুর্দিশ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে এবং তারা যে কোনো বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করবে।

ইরানে প্রায় এক কোটি কুর্দ আছে এবং হাজার হাজার কুর্দ যোদ্ধা পাহাড় ঘেরা অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। যদিও ইরানে বিদ্রোহের ক্ষেত্রে কুর্দিশ নেতারা সাধারণ ইরানি জনগণের কিছু সমর্থন পেতে পারেন তবে ইরাকি কুর্দিশ নেতারা সম্ভাব্য বিপর্যয়ের শঙ্কায় বেশ সতর্ক থাকবেন। বিশেষ করে অন্য দেশের মতো যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেছে, তাদের ওপর পাল্টা আক্রমণের বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad