ঢাকার গুলশান থানার হত্যা মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আসামি এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তিনি অপর সহযোগীদের অর্থ জোগান ও উসকানি দিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বাপ্পিসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে বয়স্ক ও অসুস্থ এ ব্যক্তির রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা জানান তারা।
শুনানির এক পর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নজরুল ইসলাম নিজের অসুস্থতার কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, ‘আমি অনেক গুরুতর অসুস্থ। আমি হার্টের রোগী, আমার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। জেলখানায় অনেকবার হার্টে পেইন (ব্যথা) উঠেছে, সেখানে চিকিৎসাও চলছে। আবারও যদি রিমান্ডে নেওয়া হয় তাহলে আমার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক করব। আমি অসুস্থ, বয়স্ক ব্যক্তি। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারেন।’
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড বাতিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এক দিনে ফ্যাসিস্ট সরকার হয়ে ওঠেননি। আসামিরা অর্থ জোগান দিয়ে তাদের ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছে। আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনি একজন অর্থ জোগানদাতা। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৯ জুলাই গুলশান থানার শাহজাদপুর বাটার গলি এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন কামাল হোসেন প্রকাশ সবুজ (৪০)। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করা হয়।
এর আগে, গত ১ অক্টোবর রাতে গুলশান এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


