ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতা নেবে তাদের বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়তে হবে না বলে মনে করছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে না। পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, আগের মতো নড়বড়ে নয়।’
তবে অর্থনীতি স্থিতিশীল হলেও নতুন সরকারকে সংস্কারগুলো সুসংহত করে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এসময় সাংবাদিকরা সরকারের ঋণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তারা জানতে চান, সরকার রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে কি না?
জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ, ঋণগ্রহণ বেড়েছে, তবে আমরা প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণও পরিশোধ করেছি। ঋণ পরিশোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
অনেক বড় ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্প এড়ানো হয়েছে বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমরা টানেল বা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণনির্ভর ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্পে যাইনি। এ কারণেই সরকারি ঋণের চাপ আরো বাড়েনি।’
কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ অপরিহার্য। কিন্তু, আমাদের যথেষ্ট আর্থিক সুযোগ ছিল না। বড় কারখানাগুলো শ্রমনির্ভর নয় এবং এগুলোতে অনেক জটিলতা থাকে।’
এসময় ভূমি রেকর্ড ও খতিয়ান মানচিত্র ডিজিটালাইজেশনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের কথা জানান তিনি।
সালেহউদ্দিন আরও জানান, সরকার এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে আর্থিক বিরোধ ও অর্থপাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সালিশ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষ অভিযোগ দায়ের করার পর বিশ্বব্যাংক সংযুক্ত সালিশি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে (ইকসিড) একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা বিশ্বব্যাংকের ফোরামে সালিশে গেছে। আমরা নোটিস পেয়েছি এবং এর জবাব দিতে হবে। এটি বিপুল অর্থের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।’
সরকার মামলাটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, সমালোচনা সত্ত্বেও অনেক মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তবে সেগুলো সবসময় দৃশ্যমান নয়।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বলে কিছুই করা হয়নি। কারণ, তারা শুধু দৃশ্যমান প্রকল্প খোঁজে। কিন্তু অনেক মৌলিক প্রক্রিয়াগত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। কেউ যদি দেখতে না চায়, তাহলে তো তারা দেখবে না।’


