জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও জীবনবোধ চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উপলক্ষে সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় প্রধানমন্ত্রী নজরুল বর্ষের স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন। এছাড়া বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাহীন প্রভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে যেমন জ্ঞানের দুয়ার খুলেছে, তেমনি মূল্যবোধ হারিয়ে বিপথগামী হওয়ার পথও উন্মুক্ত হয়েছে। এমন জটিল বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা উদীয়মান প্রজন্মের সামনে আশার আলোকবর্তিকা হতে পারে।’
এ কারণেই কবির সাহিত্যকর্ম কেবল সরকারি অফিসে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদযাপনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহীরা। এছাড়া নজরুল গবেষক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির প্রশংসা করলেও এর আয়োজন প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণপত্রে সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। এর পরিবর্তে যদি নজরুল গবেষক, শিল্পী ও নজরুল প্রেমীদের যুক্ত করার কথা বলা থাকত, সেটি বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।’
কবি নজরুলকে ‘বাংলাদেশের মন’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে কবি প্রথম ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এছাড়া সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, শোষণ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই ছিল প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মূল ভাষা।
প্রধানমন্ত্রী বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সাংস্কৃতিক উৎসব ও নজরুল সংগীতের আসরের মাধ্যমে কবির সৃষ্টিকে জনপরিসরে আরও বিস্তৃত করার তাগিদ দেন। ডিজিটাল মাধ্যমে তার সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশের আবহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অপশক্তি মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সবাই মিলেমিশে থাকাই আমাদের মূল্যবোধ। বর্তমান সরকার এমন এক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবে।’


