রাজধানী ঢাকার বংশাল থানার নাজিমউদ্দিন রোডের একটি বাসায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীর হাতে মাদকাসক্ত স্বামী খুন হয়েছেন। নিহতের নাম সুমন (৪০)। তিনি ঢাকা মেডিকেলের বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা পুলিশের।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের জমিদার গলির একটি বাড়ির ৪ তলার বাসায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার বাড়ি হবিগঞ্জের কমলগঞ্জ উপজেলায়। বাবার নাম নবী মিয়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুমন দুটি বিয়ে করেছেন। তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমার সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে নিহত হন।
সুমনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তার। তিনি জানান, জমিদার গলির ওই বাসায় তিনি এক মেয়ে নিয়ে থাকেন। সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলিও একই এলাকায় থাকেন।
নাসিমার দাবি, সোমবার রাতে সুমন তার বাসায় যান। সে রাতেই বাসা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়। রাতে সুমনকে তিনি বাথরুমে মাদকসেবন করতে দেখেছেন।
পরে এসব বিষয় নিয়ে সকালে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সুমন নাসিমাকে ব্যাপক মারধর করেন এবং তার পেটে কামড় দেন। এক পর্যায়ে লোহার একটি ধারালো বস্তু এনে সেটি দিয়ে নাসিমাকে আঘাতও করেন। এরপর দুজনের হাতাহাতির এক পর্যায়ে সেই ধারালো বস্তুটি সুমনের বুকে বিধে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে নাসিমাই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। তার বুকের বা পাশে একটি জখম রয়েছে।


