কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘দেশের কৃষিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার কাজ করছে।’
শুক্রবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কুমিল্লার ১ হাজার ৪৫৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৭০ শতাংশ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের কৃষি শক্তিশালী হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেশ পুনরুদ্ধারে যে ৩১ দফা রূপরেখা দিয়েছিলেন সেখানে কৃষি খাতের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের জন্য স্বতন্ত্র কৃষক কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষক কার্ড চালুর প্রাক-পাইলটিং শুরু হয়। আজ কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকের ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশ থেকে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য শেষ হবে। কৃষক প্রতিটি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ৫০০ টাকার প্রণোদনা পাবেন। যা দিয়ে সার, বীজ, বালাইনাশক ও সব ধরনের কৃষি সেবা কিনতে পারবেন।
কৃষির আধুনিকায়নে সরকার কৃষকদের ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকিমূল্যে যে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সেই সুবিধাও পাবেন। কৃষি ঋণ ও কৃষি বীমার সুবিধাও এ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষিতে ব্যাপক আকারে সোলারের মাধ্যমে সেচ পাম্প চালুর পরিকল্পনা আছে। কৃষক কার্ডধারী কৃষক সমবায়ের মাধ্যমে এ সুবিধা পাবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সমন্বিত কৃষকবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।
এর আগে মন্ত্রী কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড ও ফলের চারা তুলে দেন। জেলা প্রশাসক কুমিল্লা মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাজী জসিম উদ্দিন এমপি,আতিকুল আলম শাওন এমপি, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের পাশে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার স্টল ঘুরে দেখেন।


