দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল শিল্পী, লোকসংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম।
সংগঠনটি বলছে, এসব হামলা শুধু কয়েকজন শিল্পীর ওপর নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও মানবতাবাদী চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সম্প্রতি পরিকল্পিতভাবে বাউল গানের অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়া, মঞ্চ দখল, শিল্পীদের হুমকি দেওয়া এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
তাদের ভাষায়, এই হামলা দেশের সংস্কৃতি, সংবিধান এবং নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ শামিল।
বাউল, লালন ও লোকসংগীত এই দেশের স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও সাম্যের চেতনাকে বহন করে। তাই এই ঐতিহ্যের ওপর আঘাত মানে সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব ধ্বংসের চেষ্টা বলে ফেরামটি মনে করে।
সংগঠনটির দাবি, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনা মামলা হিসেবে নিতে হবে, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার আহ্বানও জানায় তারা।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উগ্র গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তায় জাতীয় পর্যায়ে স্থায়ী নীতি প্রণয়নের দাবি জানায় সংগঠনটি।
বাউল, লালন ও লোকসংগীতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করে চর্চা বাধাগ্রস্ত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে দেওয়া ঘোষণায় ফোরাম বলেছে, সংস্কৃতির ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে তারা দেশের প্রতিটি শিল্পীর পাশে আছে। তাদের দাবি, সংস্কৃতি রক্ষা কোনো সংগঠনের একার দায়িত্ব নয়–এটি রাষ্ট্র ও জাতির যৌথ দায়িত্ব।
তারা সতর্ক করে জানায়, উগ্র শক্তি কখনও বাংলাদেশের শেকড় ছিন্ন করতে পারবে না এবং এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই উদাসীনতাকে ক্ষমা করবে না।


