দীর্ঘদিন পর আবার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষক সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উপাচার্য কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩ জন প্রার্থী।
জানা গেছে, আওয়ামী প্রশাসনের আমলে নিয়োগ নিয়ে অসংখ্যবার বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা লেনদেনের অডিও ফাঁস, ভাঙচুর, আন্দোলন, সংঘর্ষ, হট্টগোল ও উপাচার্য পদত্যাগসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা ঘটনার কারণে অধিকাংশ উপাচার্য তাদের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।
বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মতিনুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা, অস্বচ্ছতা কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা শঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। শুরু থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে মেধা ও যোগ্যতার বাইরে অন্য কোনো কিছুর সুযোগ নেই। নিয়োগ কমিটিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কোনো ধরনের তদবির ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। বিষয়টি আমি নিজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।’
চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে একই বিভাগের নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিশসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।


