দিনাজপুরে জৈব কৃষিতে কৃষকের ফলনে বিপ্লব

দিনাজপুরে জৈব কৃষিতে কৃষকের ফলনে বিপ্লব
মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধান গাছ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বেড়াজাল ভেঙে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ধান উৎপাদনে বিপ্লব এনেছে জৈব বালাইনাশক প্রযুক্তি। বায়োলিড নামের একটি জৈব অণুজীব সার ব্যবহার করে কৃষকরা এখন শুধু বিষমুক্ত ধানই পাচ্ছেন না, বরং তাতে ফলনও বাড়ছে বিঘাপ্রতি তিন থেকে চার মণ পর্যন্ত।

চিরিরবন্দর উপজেলার খোচনা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘বায়োলিড কৃষক মাঠ দিবস’ ২০২৫ এ এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। ফেরোমন ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড ও শাহ কালাম ট্রেডার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ও ফেরোমন ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের সেলস অ্যান্ড ম্যানেজার (পরিচালক) কে এম মনোয়ার হোসেন হিমেল বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি রয়েছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মাটির জৈব গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি সমৃদ্ধ ‘বায়োলিড’ হলো কৃষকদের জন্য এক টেকসই সমাধান।’

তিনি বায়োলিডের গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বায়োলিড মাটির উপকারী জীবাণু বাড়িয়ে উর্বরতা রক্ষা করে, রোগজীবাণু দমন করে এবং ফসলকে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধী করে তোলে।’

জমিতে ব্যবহারের জন্য বায়োলিড কিনছেন এক কৃষক। ছবি: টাইমস

তিনি আরও বলেন, ‘রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে বায়োলিড শুধু ফলনই বাড়ায় না, জমির মাটিকেও পুনর্জীবিত করে। এর মাধ্যমে আমরা একদিকে পরিবেশ রক্ষা করছি, অন্যদিকে কৃষক পাচ্ছেন নিরাপদ খাদ্য ও বাড়তি আয়।’

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে ফলন পর্যালোচনা। কৃষকদের কথায় এ কথা পরিষ্কার যে, বায়োলিডই ভবিষ্যৎ।

চিরিরবন্দরের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো আমার তিন বিঘা জমিতে বায়োলিড ব্যবহার করেছি। গাছের রঙ, পাতার সবলতা আর ধানের শীষ দেখে আমি অবাক হয়েছি। এমন ফসল আগে কখনো পাইনি! যেখানে আগে রাসায়নিক ব্যবহারে ধানের গোড়া দুর্বল হতো, সেখানে বায়োলিড ব্যবহারের পর গাছ হয়েছে সবল এবং ফলনও বেড়েছে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে তিন থেকে চার মণ।’

অন্যান্য কৃষকরাও জানান, এই জৈব সার ব্যবহারের ফলে তারা রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম দেখেছেন এবং গাছের সতেজতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কৃষকরা বায়োলিড কিনে নেন এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

ফেরোমন ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, জৈব কৃষির এই আলো প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দিতে তারা কাজ করছেন। কৃষকরা লাভবান হলে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়লে, দেশও এগিয়ে যাবে টেকসই কৃষি উৎপাদনের পথে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad