গেল দশ বছর আরাফাত মহসীন নিধি জিঙ্গেলের সুর বুনেছেন, গান প্রডিউস করেছেন, ‘দামাল’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘দাগি’র মতো সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন। রাবা খানের সাথে ঘর বেঁধেছেন ভালোবাসার গানের সূত্র ধরে। কিন্তু একটা কাজ করা হয়নি — নিজের ব্যান্ড ‘আরাফাত মহসীন নিধি’ নিয়ে মঞ্চে উঠে দর্শকের চোখের দিকে তাকিয়ে গান গাওয়া।
সবশেষ ২০১৬ সালে বিইউপি-তে মঞ্চে শো করেছিল ‘আরাফাত মহসিন লাইভ’ ব্যান্ড। বিরতির পর এবার নতুন দল নিয়ে ফিরছেন তিনি।
বর্তমান লাইনআপে আছেন রিমন (কি-বোর্ড), দেবাশীষ (গিটার), নীপু (বেজ), খালিদ (ড্রামস) এবং আরাফাত মহসিন (ভোকাল)। দলের সবাই তার কাছে নতুন — আগে কারও সঙ্গেই একসাথে মঞ্চে ওঠেননি তিনি। তাই এই পথচলাটা কেবল পুনরাবৃত্তি নয়, এটা একটা নতুন অধ্যায়।
এই দলে বিশেষভাবে চোখে পড়ছে ড্রামার খালিদের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১২ বছর পর মঞ্চে ফিরছেন তিনি। এই ফিরে আসাটাকে নিধি দেখছেন এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে।
ভবিষ্যতে দলের সঙ্গে কোলাবরেশন হতে পারে ‘ও বন্ধু লাল গোলাপী’ রিমেকের জন্য পরিচিত রিজভী রিজুর।
এতদিন পরে কেন আবার মঞ্চে? আরাফাত মহসিনের সরল উত্তর, ‘এআই-এর যুগে শিল্পের লাইভ অভিজ্ঞতাটা হারিয়ে যেতে বসেছে। মানুষ সামনাসামনি বসে শিল্পের উষ্ণতা যেভাবে অনুভব করে, সেটা কোনো অ্যালগরিদম দিতে পারে না। সেই অনুভূতিটুকু বাঁচিয়ে রাখতেই এই উদ্যোগ।’
তিনি জানালেন, এই লাইভ পারফরম্যান্স হবে একটু ভিন্নধর্মী। শোগুলো থিয়েট্রিক্যাল ও এক্সপেরিমেন্টাল করার পরিকল্পনা আছে দলের। ভবিষ্যতে নাচ এবং সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কোলাবরেশনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
এই মুহূর্তে দলটি কর্পোরেট শোতে ব্যস্ত। তবে পুরোপুরি পাবলিক শো শুরু করার পরিকল্পনাও চলছে সমান্তরালে। ঠিক কবে, কোথায় প্রথম পাবলিক শো হবে — তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। তবে তাদের উৎসাহ দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেই মুহূর্তটা বেশি দূরে নয়।
‘জলকণা উড়ে যায়’, ‘ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই’, ‘এ আমার শহর’, ‘লাল গোলাপী’, ‘শত ডানার প্রজাপতি’, ‘রাজকন্যা’ — এই গানগুলোর মাধ্যমে আরাফাত মহসিন লাইভের ভক্তদের পরিচয়।


